মারুফুল হক খুব বিরক্ত। সেই কবে ফুটবল মৌসুম শুরু করে এখন পর্যন্ত এগোচ্ছেন কচ্ছপগতিতে। ‘এভাবে একজন কোচের কোনো পরিকল্পনাই আর থাকে না’ বলে বারবার হতাশা ব্যক্ত করেন আরামবাগের এই কোচ। হতাশার কারণ, গত ১৩ মে ফেডারেশন কাপ দিয়ে শুরু হওয়া ফুটবল মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৩৮ দিনে আরামবাগসহ ছোট দলগুলো ম্যাচ খেলেছে মাত্র ১০টি! ফেডারেশন কাপে ২ ম্যাচ, লিগে ৮। তার মানে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময়ে আরামবাগ গড়ে প্রায় ১৪ দিনে একটি ম্যাচ খেলেছে!
ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা দুই আবাহনী পেয়েছে ৫টি ম্যাচ। এই দুই দলই এখন পর্যন্ত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৩টি করে ম্যাচ খেলেছে। তবে সেটাও এমন কিছুই নয়। বারবার বিরতি পড়াতেই ম্যাচসংখ্যা কম। এতে ফুটবল মৌসুমই আকর্ষণ হারিয়েছে। দলগুলোকে নতুনভাবে শুরু করতে হয় বিরতি শেষে। ফুটবলারদের মনঃসংযোগও নড়ে যায় খেলা থেকে।
এত কথা বলার কারণ, দশম পেশাদার ফুটবল লিগটা তিন সপ্তাহের বিরতি কাটিয়ে আগামীকাল আবার মাঠে গড়াবে। প্রথম দিনে ঢাকা আবাহনী-ব্রাদার্স, চট্টগ্রাম আবাহনী-শেখ জামাল। ১৪ অক্টোবর শেষে আবার একটা লম্বা বিরতি। ১৫ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর মধ্যবর্তী দলবদল। ১৩ নভেম্বর লিগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার কথা। সে পর্যন্ত ছয় মাসে বেশির ভাগ দল ম্যাচ খেলবে মাত্র ১৩টি করে!
তবে এই সময়সূচিও ঠিক থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। নানা অজুহাতে সকাল-বিকেল খেলা বন্ধ থাকে। আগে জাতীয় দলের খেলার জন্য বন্ধ থাকত ঘরোয়া খেলা। এখন যুবদলের জন্যও লিগে পড়ে লম্বা বিরতি। গরম, চিকুনগুনিয়া, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জন্য খেলা বন্ধ ছিল দুই মাসেরও বেশি। ক্লাবগুলো প্রায়ই খেলা পেছানোর বায়না ধরে। সম্প্রতি জাতীয় যুবদলের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে ফেডারেশনও বেশ উৎসাহ দেখায়।
কারণ যা-ই থাকুক, এভাবে বিরতির চক্রে পড়ে বেশি সমস্যায় ভোগেন কোচরা। নতুন করে তাঁরা শুরু করেন বিরতির পর। মারুফ যেমন বলছিলেন, ‘২৮ জুলাই লিগ শুরুর পর এরই মধ্যে আমরা ছোট-বড় চার-পাঁচটি বিরতি পেয়েছি। এই বিরতির ব্যাপারটা আগেই জানালে ক্লাব নিজেদের মতো এগোতে পারত। এটা বিরাট এক সমস্যা এখন।’
কোচদের মতে এসব জাতীয় দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলে। কারণ ফুটবলারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনটাই নিভে যায় ঘন ঘন বিরতিতে। লিগের শীর্ষ দল চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিরতি বেশি থাকলে খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিতে হয়। খরচের একটা ব্যাপার আছে। তবে বিদেশিদের তো আর ছাড়া যায় না। এখানে আর্থিকভাবে ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশি বিরতি থাকলে ফিটনেস নিয়ে আবার নতুনভাবে কাজ করা লাগে।’
ইউরোপের বড় বড় লিগে দলগুলো খেলে একটানা। ২০ দলের লিগে ৩৮টি ম্যাচ। বাংলাদেশে ১২ দলের প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচই সাকল্যে ২২টি। পেশাদার লিগে সপ্তাহে একটি করে ম্যাচ। একই সঙ্গে অন্য টুর্নামেন্টের ম্যাচও খেলে দলগুলো। বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের মতো দল লিগে ৩৮টি ম্যাচের সঙ্গে কোপা ডেল রে, চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে ৫৪-৫৫ বা তারও বেশি ম্যাচ খেলে মৌসুমে। গত মৌসুমে মেসি একাই খেলেছেন ৫২টি ম্যাচ। বাংলাদেশের ক্লাবগুলো বছরে খেলে ২৮-৩০টি ম্যাচ! সেটিরও ফাঁকে ফাঁকে থাকে লম্বা লম্বা বিরতি।
বাংলাদেশের ফুটবলের স্বার্থে এই অবস্থা বদলানোর পরামর্শ দিয়েছেন আবাহনীর কোচ দ্রাগো মামিচ, ‘ভালো ফুটবলার তৈরি করতে দরকার একটি বাধাহীন ফুটবল মৌসুম।’ বাফুফে ও ক্লাব এটি উপলব্ধি করলেই ফুটবলের মঙ্গল।
Saturday, 30 September 2017
টিআরপি কখন বাড়ে কখন কমে, আমি বুঝি না
আজ রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে ধারাবাহিক নাটক রাজু ৪২০-এর ৭৫তম পর্ব। জাকির হোসেনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। পাশাপাশি নাটকটিতে অভিনয়ও করেছেন তিনি। কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
‘রাজু ৪২০’-এ কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
এখন দর্শকের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া একটা বিরাট ব্যাপার। আমার ধারণা, মানুষ নাটকের ওপর থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছে।
মনোযোগ হারিয়ে ফেলার কারণ কী?
অনেক কারণ আছে। অল্প কথায় তা বলা কঠিন ব্যাপার। এটা সমষ্টিগত সমস্যা। আবার আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। সত্যি কথা হলো, আগে মানুষ নাটক দেখে ভালো-মন্দ কিছু একটা বলত। এখন কোনোটাই বলে না। এটাই সমস্যা।
‘রাজু ৪২০’ আর কত পর্ব প্রচার হবে?
এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে মনে হয় না খুব বেশিদূর যাবে। যত দূরেই যাক, এটিএন বাংলা কর্তৃপক্ষ ও আমার স্পনসর প্রতিষ্ঠান ভিশনকে ধন্যবাদ জানাই। সঙ্গে আমার টিমকেও ধন্যবাদ দিই। তবে টেলিভিশনের একটা ব্যাপার নিয়ে আমার খটকা আছে।
কী সেটা?
সেটা হলো টিআরপি (টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট)। এটা যে কখন বাড়ে আর কখন কমে, কীভাবে হয়, তা আমি বুঝি না। অথচ এটার ওপরই নির্ভর করে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। সব সময় শোনা যায়, এটার টিআরপি তো নেই, ওটার টিআরপি আছে। আমার কোনোভাবেই মাথায় আসে না আবদুল্লাহ আল–মামুন, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, হুমায়ুন ফরীদি কি টিআরপির ওপর বেঁচেছিলেন বা আছেন? যখন টিআরপির গল্প বলে, তখন মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। আমাদের স্কুল কিন্তু তাঁদের সঙ্গেই। বলা যায়, তাঁরা যখন স্কুলের ফাইনাল ইয়ারে, আমরা তখন ফার্স্ট ইয়ার। আমাদের স্কুল কিন্তু এক। অন্য যাঁরা আছেন, তাঁরা কিন্তু অন্য স্কুল থেকে এসেছেন। এখন যাঁরা টিআরপি গোনেন বা ফেসবুকনির্ভর অভিনেতা, তাঁদের জন্য টিআরপি খুব জরুরি। আমাদের জন্য না।
আপনি তো পরিচালনাও করছেন?
পরিচালনা করা লাগে তাই করছি। কিন্তু আমি তাতে খুব একটা আগ্রহ পাচ্ছি না।
৪ অক্টোবর আপনার জন্মদিন। বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে?
না। সেদিন এতিমদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা। নিজেও এতিম তো তাই! ঢাকার মধ্যেই কোনো এতিমখানায় চলে যাব। খাওয়াদাওয়া করব। এই তো।
সাক্ষাৎকার: হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক
‘রাজু ৪২০’-এ কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
এখন দর্শকের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া একটা বিরাট ব্যাপার। আমার ধারণা, মানুষ নাটকের ওপর থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছে।
মনোযোগ হারিয়ে ফেলার কারণ কী?
অনেক কারণ আছে। অল্প কথায় তা বলা কঠিন ব্যাপার। এটা সমষ্টিগত সমস্যা। আবার আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। সত্যি কথা হলো, আগে মানুষ নাটক দেখে ভালো-মন্দ কিছু একটা বলত। এখন কোনোটাই বলে না। এটাই সমস্যা।
‘রাজু ৪২০’ আর কত পর্ব প্রচার হবে?
এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে মনে হয় না খুব বেশিদূর যাবে। যত দূরেই যাক, এটিএন বাংলা কর্তৃপক্ষ ও আমার স্পনসর প্রতিষ্ঠান ভিশনকে ধন্যবাদ জানাই। সঙ্গে আমার টিমকেও ধন্যবাদ দিই। তবে টেলিভিশনের একটা ব্যাপার নিয়ে আমার খটকা আছে।
কী সেটা?
সেটা হলো টিআরপি (টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট)। এটা যে কখন বাড়ে আর কখন কমে, কীভাবে হয়, তা আমি বুঝি না। অথচ এটার ওপরই নির্ভর করে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। সব সময় শোনা যায়, এটার টিআরপি তো নেই, ওটার টিআরপি আছে। আমার কোনোভাবেই মাথায় আসে না আবদুল্লাহ আল–মামুন, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, হুমায়ুন ফরীদি কি টিআরপির ওপর বেঁচেছিলেন বা আছেন? যখন টিআরপির গল্প বলে, তখন মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। আমাদের স্কুল কিন্তু তাঁদের সঙ্গেই। বলা যায়, তাঁরা যখন স্কুলের ফাইনাল ইয়ারে, আমরা তখন ফার্স্ট ইয়ার। আমাদের স্কুল কিন্তু এক। অন্য যাঁরা আছেন, তাঁরা কিন্তু অন্য স্কুল থেকে এসেছেন। এখন যাঁরা টিআরপি গোনেন বা ফেসবুকনির্ভর অভিনেতা, তাঁদের জন্য টিআরপি খুব জরুরি। আমাদের জন্য না।
আপনি তো পরিচালনাও করছেন?
পরিচালনা করা লাগে তাই করছি। কিন্তু আমি তাতে খুব একটা আগ্রহ পাচ্ছি না।
৪ অক্টোবর আপনার জন্মদিন। বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে?
না। সেদিন এতিমদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা। নিজেও এতিম তো তাই! ঢাকার মধ্যেই কোনো এতিমখানায় চলে যাব। খাওয়াদাওয়া করব। এই তো।
সাক্ষাৎকার: হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক
Subscribe to:
Comments (Atom)
https://www.facebook.com/share/v8rScxfmcdXsCUdb/?mibextid=qi2Omg 🔥 Canva Pro মাত্র ৪৯ টাকায়। 🔥 ✅ আগে ডেলিভারি নিবেন পরে পেমেন্ট করবেন। ...
