‘ফিফা ভাইরাসে’ আক্রান্ত না হলেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দুটো ম্যাচ ঠিকই তার প্রভাব ফেলেছে। চোটের কারণে কেইলর নাভাস নামতে পারেননি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের আগে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে কাসেমিরোকে। বেঞ্চে জায়গা হয়েছে ইসকো ও মডরিচের। মাঠে তাঁদের অভাব ভালোভাবেই টের পেয়েছে রিয়াল। শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবলের দেখা মিলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে ১৬ মিনিটে, ম্যাচে প্রথম কোনো গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে রিয়াল। তবে রামোসের হেড লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। এর আগেই অবশ্য ম্যাচে প্রথম বদলি নামাতে হয়েছে স্বাগতিক দলকে।
পরের সুযোগ পেতে আরও ১২ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে রিয়ালকে। এক মাস পর মাঠে ফেরা করিম বেনজেমাকে দারুণ এক বল বানিয়ে দিয়েছিলেন লুকাস ভাসকেজ। বেনজেমার ব্যাক হিলটাও ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু গেটাফের গোলরক্ষকের দারুণ সেভে গোল পায়নি রিয়াল। ৩২ মিনিটেও রোনালদোর শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন ভিসেন্তে গুইতা। পরের পাঁচ মিনিটে আরও দুবার গোলের সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। কিন্তু ভাগ্য ফেরেনি।
৩৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে ডান প্রান্তে বল পেয়ে যান বেনজেমা। দারুণ এক দৌড় ও ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে প্রত্যাবর্তনটা রাঙিয়ে নিয়েছেন ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার। এ গোলেই যে ক্লাব কিংবদন্তি পাকো গেন্তোকে গোল সংখ্যায় (১৮২) ছুঁয়েছেন বেনজেমা। এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধেও শুরুতে প্রাধান্য ছিল রিয়ালের। মার্সেলো লক্ষ্যে বল রাখতে পারলে ব্যবধান বাড়িয়েও নিতে পারত জিদানের দল। কিন্তু ৫৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল খেয়ে বসে তারা। ডান প্রান্তে হোর্হে মলিনার শট সার্জিও রামোসের পা ছুঁয়ে জালে ঢুকে যায়। তবে রিপ্লেতে দেখা গেছে, ক্রস করার মুহূর্তে অফ সাইডে ছিলেন গেটাফের এক খেলোয়াড়।
৭২ মিনিটে উপায় না দেখে ইসকোকে মাঠে নামান জিদান। ৭৩ মিনিটেই সহজতম গোলের সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। কিন্তু ফাঁকায় দাঁড়ানো রোনালদো অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে পাঠিয়েছেন। সে ভুল শুধরে নিয়েছেন ৮৫ মিনিটে। ইসকোর দারুণ এক থ্রু বল খুঁজে নিল রোনালদোকে। ডান প্রান্ত থেকে এবার আর কোনো ভুল করেননি। অফসাইড ট্র্যাপ ভেদ করা দৌড়ের শেষে দলকে এগিয়ে দিলেন আরেকবার। অবশেষে লা লিগায় গোলের দেখা পেলেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের বাকি সময়ে অনেক চেষ্টা করেও সমতা ফেরাতে পারেনি গেটাফে। রিয়ালও পারেনি ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে।

No comments:
Post a Comment